দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইট-পাথরের যান্ত্রিক শহরে যখন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চর্চা ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে, তখন পিঠা, কবিতা ও গানের আয়োজনে প্রাণের স্পন্দন ফিরেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) আঙিনায়। বাচসাসের উদ্যোগে আয়োজিত ‘কবিতা, পিঠা ও গান: মিলনে-আনন্দে গুণীজন’ অনুষ্ঠানে কবি, গীতিকবি, শিল্পী ও সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে জমে ওঠে সাংস্কৃতিক মিলনমেলা।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্য পিঠা-পুলি। নানা ধরনের মুখরোচক পিঠার ঘ্রাণে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনস্থল। ব্যস্ত নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে গুণীজনেরা মেতে ওঠেন আড্ডায়। পরে শুরু হয় কবিতা পাঠের আসর। দেশের বিভিন্ন প্রজন্মের কবিরা মঞ্চে উঠে নিজেদের জনপ্রিয় কবিতা আবৃত্তি করেন। কোনো কবিতায় ছিল দ্রোহের সুর, কোনোটি প্রেমের আবেগে ভরা, আবার কোনো কবিতায় ফুটে ওঠে বাংলার চিরায়ত রূপ।
কবিতা পাঠের পর শুরু হয় গানের আসর। গীতিকবিদের লেখা জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান পরিবেশন করেন প্রবীণ ও নবীন শিল্পীরা। গানের সুরে পুরো মিলনায়তন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারাও শিল্পীদের সঙ্গে গানের তালে তালে অংশ নেন।
আয়োজনে বাচসাসের কবি ও গীতিকবিদের সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্মাননা পাওয়া কবিরা হলেন আতাহার খান, শিহাব সরকার, মাহমুদ শফিক, হাসান হাফিজ, আব্দুল হাই শিকদার, শামীমা চৌধুরী, আবদুর রহমান, হাসনাইন সাজ্জাদী, দিলদার হোসেন, রেজাউদ্দিন স্টালিন, শান্তা মারিয়া, দুলাল খান, সাইদ আহমেদ, সেলিনা শিউলী ও দীপংকর দীপক।
গীতিকবিদের মধ্যে সম্মাননা পান সাহাবুদ্দিন মজুমদার, জাহিদ আকবর, মাহমুদ মানজুর, রবিউল ইসলাম জীবন, রেজাউর রহমান রিজভী, তারেক আনন্দ, ওমর ফারুক ও আশিক বন্ধু। তাঁদের লেখা গান পরিবেশন করেন জয় শাহরিয়ার, কামরুজ্জামান রাব্বি, নদী, কাজী শুভ, মুহাম্মদ মিলন, রাইসা খান, অভী তালুকদার ও কানিজ সুবর্ণা। পরে বাচসাসের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা তাঁদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।
আয়োজনের অন্যতম প্রাণ ছিল পারস্পরিক মিলন ও আনন্দ। দীর্ঘদিন পর সংস্কৃতির বিভিন্ন মাধ্যমের গুণীজনেরা একই ছাদের নিচে একত্রিত হয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কুশল বিনিময়, সেলফি তোলা, হাসি-আড্ডা ও পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানানোর মধ্য দিয়ে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
আয়োজন সম্পর্কে বাচসাস সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণ ও সাধারণ সম্পাদক রাহাত সাইফুল বলেন, সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ, গুণীজনদের সম্মান জানানো এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়াতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। সদস্য ও দেশের প্রথিতযশা গুণীজনদের একই ছাদের নিচে এনে আনন্দের কিছু মুহূর্ত উপহার দেওয়াই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। কবিতা ও গানের শক্তি বাঙালির সংস্কৃতির শেকড়ের সঙ্গে মানুষকে যুক্ত করে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতেও বাচসাস এমন নান্দনিক ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজন অব্যাহত রাখবে বলে জানান তাঁরা।
অনুষ্ঠানে বাচসাসের কার্যনির্বাহী পরিষদের সহসভাপতি সালাম মাহমুদ, সহসাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান রতন, অর্থ সম্পাদক রুহুল সাখাওয়াত, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা মতিহার, আন্তর্জাতিক ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আবু হুরায়রা মুরাদ, সমাজকল্যাণ ও মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ইসরাত জাহান স্বর্ণা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুর ইসলাম লিটন, দপ্তর সম্পাদক রুহুল আমিন ভূঁইয়া এবং কার্যনির্বাহী সদস্য শাকিল হোসেন, সাজু আহমেদ, হাফিজ রহমান ও নিয়াজ মোর্শেদ শুভ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক ছটকু আহমেদ, নিরাপদ সড়ক চাইয়ের মহাসচিব ও বাচসাস সদস্য লিটন এরশাদ, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন, টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশের সভাপতি কাদের মনসুর, বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনিরুল ইসলাম, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সহসভাপতি ডি এ তায়েব, চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তিসহ চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পী ও কলাকুশলীরা। তাঁরা বাচসাসের এ আয়োজনের প্রশংসা করেন।
পিঠা, কবিতা ও গানের এই আয়োজন তাই শুধু আনুষ্ঠানিক কোনো অনুষ্ঠান হয়ে থাকেনি; এটি হয়ে উঠেছিল বাঙালির শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির শেকড়ের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়ার এক আনন্দঘন উপলক্ষ।
এমএস/